মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

শিক্ষা প্রতিবেদন

১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এদেশ স্বাধীন করেছি। স্বাধীনতার জন্য ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ পুঙ্গু হয়েছে। দখলদার পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দালালদের হাতে ইজ্জত ও সম্ভ্রম হারিয়েছে অসংখ্য মা-বোন।

 

আমমাদের জাতির স্বপ্নছিল দারিদ্র, নিরক্ষরতা, পশ্চাদপদতা, সাম্প্রদায়িকতা ও দূর্নীতিমুক্ত এক উন্নত। সমৃদ্ধ, সুখী মযৃদাশীল গণতান্ত্রিক স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র। স্বাধীনতার চল্লি বছর অত্রিকম করে  এসে সেই স্বপন্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্থাৎ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দারিদ্র, পশ্চাদপদতা, নিরক্ষরতা ও দুর্নীতিমুক্ত একটি উন্ন সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে অর্জন করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যই 'ভিশন-২০২১'।

 

ডিজিটাল বাংলাদেশ 'ভিশন- ২০২১' অর্থাৎ দারিদ্র, নিরক্ষরতা, পশ্চাদপদতা ও দুর্ণীতিমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং আরো সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রধান শক্তি হবে আমাদের নুতন প্রজন্ম। এই নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। কিন্তু প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষা দিয়ে এই লক্ষ্য অর্থাৎ আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের নির্মাতা হিসাবে নুতন প্রজন্মকে গড়ে তোলা যাবে না। আমরা চাই শিক্ষার আমুল মৌলিক  পরিবর্তন। আমরা চাই নতুন যুগের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা মানে জ্ঞান ও দক্ষতা এবং তা হতে হবে জীবন সম্পৃক্ত। তাই শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি আধুনিক শিক্ষা যুগোপযোগী শিক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা। আমাদের নতুন প্রজন্ম যাতে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি আরও  করে তা প্রয়োগ করতে পারবে সেই শিক্ষা।

 

শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সাফল্য ও অর্জনের অন্যতম পথিকৃত মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ। তাঁর নিরলস উদ্যোগ, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বে শিক্ষা ক্ষেত্রে সাধিত হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। তাঁর সার্বক্ষণিক কর্মপ্রয়াস ও পরিচালনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গৃহীত কার্যক্রম আজসর্বমহলে প্রশংসিত। জনমানসে উজ্জ্বল হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়েরভাবমুর্তি। শিক্ষাকে তিনি নিয়েছেন সামাজিক আন্দোলনের ব্রত হিসাবে।

 

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সকল পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, আলেম-ওলামা, সকল রাজনৈতিক দল ও সমাজের সকল অংশের মানুষের মতামত গ্রহণ করে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে জানুয়ারির ১ তারিখে প্রথম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, ৪০% গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান, পঞ্চম  ও অষটম শ্রেণীতে জাতীয়ভাবে পরীক্ষা গ্রহণ এ সকল পদক্ষেপ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার হ্রাস করেছে। এই সরকারের প্রথম বছর থেকেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষা শেষ হবার ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলাফল ওয়েব সাইটে ও ই-মেইলে দেয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে মোবাইলফোনে এসএমএস করে কয়েক সেক্ডের মধ্যে ফলাফল জানতে পারছে। গত ২টি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি করে জেলায় টেলি-কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন। এভাবে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সকল ক্ষেত্রে প্রসারিত করছি।

 

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য আধুনিক ও সময়োগযোগী কারিকুলাম অনুসারেপাঠ্যপুস্তক তৈরী করা হচ্ছে। মুখস্ত ও নোট গাইড বই ভিত্তিক শিক্ষার পরিবর্তে মূল পাঠ্যবই পড়া এবং যা পড়ানো হবে তা শিখতে হবে। সেজন্য পাঠদান পদ্ধতিতেও বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মানবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে নিয়ামক শক্তি হচ্ছে শিক্ষক। শিক্ষকদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চলছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুরোতে পাঠাগার গড়ে তোলা হচ্ছে।

ছবি


সংযুক্তি

sapi.jpg sapi.jpg
sapi_0.jpg sapi_0.jpg