মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভুমি

ধামইরহাট উপজেলার সমকালীন ইতিহাস-ঐতিহ্য সকলেরই জানা। পৰানৱরে অতীত ইতিহাস অনেকের অজানা। বোধকরি সে কারণেই ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি আমরা এতোটাই নির্মোহ, জীবন বোধের প্রতি উদাসীন ও হতাশায় নিমজ্জিত। নতুবা উপনিবেশিক মানষিক জড়তায় আড়ষ্ঠ। অথচ একটু পিছনে ফিরে তাকালেই সোনালী অতীতের ঝলকানি আমাদের চেতনাকে জাগরিত করবে, সমৃদ্ধির পথ দেখাবে।

 

ধামইরহাট উপজেলার অতীত আলোচনায় ‘ধামইরহাট’ নামক স'ান এবং এর নামকরণের উৎপত্তির পিছনের আলোচনা অত্যনৱ প্রাসঙ্গিক। রাজশাহী জেলার ইতিহাস রচয়িতা প্রখ্যাত ঐতিহাসিক কাজী মোহাম্মদ মিছের মহোদয়ের বর্ণনা মতে- ‘ধামা’ শব্দ থেকে ধামইরহাট শব্দের উৎপত্তি। আর এর পিছনের ঐতিহাসিক সুত্র হলো, ১৮৫৫ সালের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাষন-শোষনের বিরম্নদ্ধে সাঁওতাল বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে সাওতাল উপজাতি গোষ্ঠীর মানুষেরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে রাজমহল ত্যাগ করে দুরবর্তী দুর্গম, পাহাড়, বন, জঙ্গলে পালিয়ে আত্নরৰা করে। এদেরই একটি শাখা বর্তমান ধামইরহাট উপজেলা পরিষদের দক্ষিণাংশে জঙ্গলে বসবাস শুরম্ন করে। কালক্রমে প্রাণ ভয়মুক্ত হয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে সহজ লভ্য বাঁশ ও বেঁত দিয়ে মানুষের দৈনন্দিন গৃহস'ালী কাজের অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস'ত কাজে মনোযোগ দেয়। এসব সামগ্রীর পসরা নিয়ে সপ্তাহের রবিবার দিন মাহালীরা বর্তমান হাট খোলায় বিক্রি করতে বসতো। পণ্য গুলির মধ্যে ধামাই ছিল প্রধান। কেননা এ সময় লেন-দেনের জন্য বাটখারা বা দাঁড়িপালস্নার পরিবর্তে ধামার ব্যাপক প্রচলন ছিল। আর ধামার পাশাপাশি দোন, ডোল, ডালি, ডালা, চাঙ্গারী, ঝাঁটা, কুলা, খইচালা, মাথল প্রভৃতি পন্যগুলি অত্যনৱ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। দূর-দূরানৱ থেকে প্রচুর মানুষ এখানে ভিড় জমাতো। এভাবে ধামা বিক্রির হাট দিনে দিনে প্রসার লাভ করে। এখানে গড়ে উঠে বাজার, পুলিশ ষ্টেশন, থানা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং বর্তমানের ধামইরহাট উপজেলা পরিষদ।