মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ধামইরহা্টের ঐতিহ্য

ভীমের পান্টি/গড়ুর স্তম্ভ/বাদ্দাল স্তম্ভঃ

 

ধামইরহাট থানার মঙ্গলবাড়িরতে অবস্থিত গড়ুর স্তম্ভটি বাদ্দাল স্তম্ভ নামেও পরিচিত। এখানে বাদ্দাল নামে একটি শহর ছিল। সেই শহরে মিশ্র বংশীয়রা থাকত। এই শহরের নামানুসারে  এ স্তম্ভের নাম রাখা হয়েছে বাদ্দাল স্তম্ভ। স্থানীয় লোকেরা একে ভীমের পান্টিও বলে। উত্তরবঙ্গে কিংবদন্তী প্রচলিত আছে যে, দেবদূত ভীম মর্ত্যলোকের ভূমি কর্ষণের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। গভীর রজনীতে চাষ কার্য শেষে মঙ্গলবাড়ী এসে ভোর হয়। তিনি দ্রুত লোক চক্ষুর অন্তরালে স্বর্গে গমনকালে তাঁর হাতে থাকা পান্টিটি আপন ভারে মাতিতে পুঁতে যায়। সেটিই বর্তমান স্তম্ভ।

 

স্তম্ভটি কাল পাথরের। এর উচ্চতা ১৬ ফুট ৯ ইঞ্চি, এর গোড়ার দিকের পরিধি প্রায় ৬ ফুট। এর উপরিভাগে বিষ্ণুর বাহন গড়ুরের মূর্তি ছিল, তা বজ্রপাতে ভেঙ্গে গেছে বলে অনেকে মনে করেন এবং এর ফলে স্তম্ভের উপরিভাগ খাড়াভাবে দ্বিখন্ডিত হয়েছে।

 

কথিত আছে ব্রিটিশ সরকার এটি মেরামতের পরিকল্পনা করেছিল কিন্তু স্তম্ভটি ক্ষতির ভয়ে আর করেনি। ব্রিটিশ সরকার গণপূর্ত বিভাগকে নিদের্শ দিয়েছিল স্তম্ভটির চারিদিকে প্লাটফর্ম নির্মাণ করতে এবং রেলিং দিয়ে ঘিরতে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে আদেশ করেছিল স্তম্ভ পর্যন্ত  একটি সহজলভ্য পথ নির্মাণ করতে। ১৯২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটিশ সরকার এ কাজের জন্য ৪৭০/-টাকা মঞ্জুর করে ছিলেন। কিন্তু প্লাটফর্ম এবং রেলিং-এর কাজ শেষ হয় ১৯২৯ সালে। রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি কারণ জমির মালিকরা সবাই কাশীতে বসবাস করত এবং ফলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়।

 

বাদ্দালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর একটি ফ্যাক্টরি ছিল।এই ফ্যাক্টরির প্রধান ছিলেন চার্লস উইলকিনস (সংস্কৃতজ্ঞ,ভগবদ্গীতার ইংরেজি অনুবাদক(১৭৮৫),বাংলা টাইপ তথা বাংলা মুদ্রণের পথপ্রর্দশক)। তিনি ১৭৮০ সালে স্তম্ভটির সন্ধান পান এবং স্তম্ভটির গায়ে ২৮ লাইনের লিপির পাঠোদ্ধার করেন এবং ১৭৮৮ নালে এশিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায় এর মর্মানুবাদ প্রকাশ করেন। লিপি থেকে জানা যায় যে, নবম-দশম শতকে পাল রাজা নারায়ন পালের (৮৬৬-৯২০) ব্রাক্ষ্মণ মন্ত্রি মিশ্র বংশীয় ভট্রগুরব মিশ্র বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে এই স্তম্ভটি প্রতিষ্ঠা করেন। ভট্রগুরব মিশ্র নিজে কবি ও সুপন্ডিত ছিলেন। উৎকীর্ণ লিপিতে মিশ্র বংশের পরিচয় এবং তাদের সঙ্গে পাল রাজাদের সম্পর্কের কথা উল্লেখ  করা হয়েছে।

 

বাদ্দালের নিকটে অবস্থিত জনকোম্পানী নামে একটি নীলকুঠির কর্মচারি থমাস উডনি ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে এবং জর্জ ক্রেটন ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে সত্মম্ভটি পরিদর্শন করেন এবং দুজনেই বহু কষ্টে স্তম্ভের গাঁয়ে নাম লিখে গেছেন।